নার্সারি বাগান তৈরী করতে সহায়তা করার জন্য খুলনার দুই ব্যবসায়ীকে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ডেকে এনে ঘরে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করার ঘটনার মূলহোতা  ইছা মিয়া ও তার সহযোগী আব্দুল লতিফকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) ইছা মিয়াকে গাইবান্ধা জেলার ধাপেরহাট এলাকা থেকে এবং তার সহযোগী আব্দুল লতিফকে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে রংপুর নগরীর আলমনগর এলাকায় অবস্থিত র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান  অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানান, খুলনার খালিশপুরের গোয়ালখালি এলাকার দুই নার্সারি ব্যবসায়ী অনলাইনের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তারা বিভিন্ন অনলাইন পেজের মাধ্যম দেশের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা ক্রয় করতেন। সেই সূত্রে রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকার ইছা মিয়া ও আব্দুল লতিফ ছদ্ম নামে খুলানায় চারা কেনার উদ্দেশ্যে যান। তারা অনেক চারা ক্রয় করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে মাটি পরীক্ষার জন্য রংপুরে আসার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানায়।

খুলনার দুই ব্যবসায়ী তাদের কথা মতো রংপুরে আসলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ফুলবাড়ি চওড়া গ্রামস্থ জনৈক রুহুল আমিনের বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন ইছা ও লতিফ। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তারা।

সেই বিকাশের লেনদেনের সূত্র ধরে ১৪ জানুয়ারি র‌্যাব-১৩ অপহৃত ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারসহ অপহরণকারী ও মুক্তিপণ চক্রের সক্রিয় সদস্য বাচ্চু চন্দ্র, স্বপন রায় ও খাদিজা বেগমকে অস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে।

অভিযানকালে সুকৌশলে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা ইছা মিয়া ও তার সহযোগী আব্দুল লতিফ মিয়া পালিয়ে যায়। পরে বুধবার অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেফতার করে র্য্যাব।

র‌্যাব অধিনায়ক আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.